• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ডের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি সন্দ্বীপে স্কুলছাত্রী অপহরণ, তিনদিন পেরিয়ে গেলেও নেই উদ্ধার তৎপরতা উড়ির চরে শিক্ষা বিপর্যয়: শিক্ষকরা বেতনহীন, পরীক্ষার্থীরা সবাই ফেল আগস্ট ঘিরে হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: প্রস্তুত সাত ভেন্যু, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা জোরদার এক সফরে উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রাজনীতি—চট্টগ্রামে তারেক রহমান

‘দুর্নীতি করে পুরো দলটাই গিলে খাবেন’: নিজ দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি ক্ষুব্ধ বিএনপির এমপি রফিকুল

ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক / ১১০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল তাঁর নিজ দলের নেতা-কর্মীদের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার কড়া আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ঝালকাঠি জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে এসব লোভনীয় কার্যকলাপ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। তিনি অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে দলীয় পরিচয়ে তারা ব্যাপক ফায়দা লুটেছেন। এর মধ্যে রয়েছে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া এবং বাড়িঘর ও ঠিকাদারি কাজে পাহারাদার হিসেবে কাজ করা। এমনকি অর্থের লোভে আওয়ামী লীগের লোকজনকে দলে ভেড়ানোর মতো কাজও তারা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “এভাবে চলতে থাকলে আপনারা পুরো দলটাকেই ধ্বংস করে ফেলবেন।”

এই সংসদ সদস্য তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই তাদের আজকের এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। অথচ ৫ আগস্ট সেই শহীদদের স্মরণে সামান্য দোয়া বা মোনাজাতের আয়োজন করার সময়ও এই নেতাদের হয়নি, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি সতর্ক করে দেন যে, শুধু পদ-পদবির লোভে রাজনীতি করলে খুব দ্রুতই তারা দল থেকে ছিটকে পড়বেন।

ফেসবুকে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দলের একটি অংশের ধারণা, সম্প্রতি কীর্তিপাশায় ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার জের ধরেই তিনি এতটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মতে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে যুবদল ও বিএনপির কিছু পদধারী নেতা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ দেখাশোনা করছেন। পাশাপাশি, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ আদালতে আওয়ামী লীগ নেতাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। এসব অনিয়মের কারণেই মূলত রফিকুল ইসলাম জামাল চরম বিরক্ত হয়েছেন।

এর বাইরে স্থানীয় রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শাহাদাৎ হোসেন ৪১৭টি প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন, যা বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই তিনি এই প্রকল্পগুলো অনুমোদনের চেষ্টা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি ইসরাত সুলতানা এলেন প্রকল্পগুলো বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (আধা সরকারি) লেটার জমা দেন। জানা গেছে, শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে এমপি রফিকুল ইসলামের আগে থেকেই রাজনৈতিক মতবিরোধ চলছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল গণমাধ্যমকে জানান, নেতা-কর্মীদের এমন নৈতিক অবক্ষয় দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাগুলো লিখেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, দলের কর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে সততার সঙ্গে দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।


আরও সংবাদ...

ফেসবুকে আমরা