
সাগরে অবমুক্ত করা হচ্ছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ‘অলিভ রেডলি’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে মগধরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজান প্রতিদিনের মতো গরুর পাল নিয়ে সন্দ্বীপ চ্যানেল সংলগ্ন নতুন চরে যান। সেখানে তিনি বিশালাকৃতির এই কচ্ছপটিকে ডাঙায় পড়ে থাকতে দেখেন। সামুদ্রিক প্রাণীটি পানি ছাড়া মারা যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় তিনি দ্রুত সেটিকে উদ্ধার করে নিকটস্থ কেওড়া বনের ভেতরের একটি পানিভর্তি গর্তে নিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে নুরুজ্জামান নামের অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা কচ্ছপটির একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে প্রাণীটিকে দ্রুত সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানান।

চাষী মিজান; যিনি প্রথম কচ্ছপটিকে উদ্ধার করেন।
খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত তৎপর হয় বনবিভাগ। শনিবার সন্ধ্যায় কচ্ছপটিকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবমুক্ত করেন বনবিভাগের সন্দ্বীপ রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন। বনবিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি ‘অলিভ রিডলি’ প্রজাতির। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN)-এর তালিকা অনুযায়ী এই কচ্ছপ বিশ্বব্যাপী ‘সংকটাপন্ন’ প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। সাধারণত এরা গভীর সমুদ্রে বিচরণ করলেও ডিম পাড়ার মৌসুমে অথবা জেলেদের জালে আটকে বা ট্রলারের আঘাতে দিকভ্রান্ত হয়ে অনেক সময় উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানিতে ভেসে কচ্ছপটি নতুন চরে এসে আটকে পড়েছিল।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান; যিনি কচ্ছপটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
জানা যায়, এই বিরল প্রজাতির কাছিম প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর এলাকার উষ্ণ পানিতে বাস করে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, “এটি পৃথিবীর বিরল ও সংকটাপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ। আমাদের দেশে সাধারণত হালদা, কর্ণফুলী, সেন্টমার্টিনসহ সুন্দরবন উপকূলীয় বেল্টে দেখা যায়। এটি ৫০ হতে ১০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।”