• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সন্দ্বীপে যুবককে কুপিয়ে জখম: নেপথ্যে যুবদল নেতা? সন্দ্বীপ থানার সামনে পুলিশ অপহরণ মামলার প্রধান আসামির শোডাউন, উস্কানিমূলক স্লোগান বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ডের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি সন্দ্বীপে স্কুলছাত্রী অপহরণ, তিনদিন পেরিয়ে গেলেও নেই উদ্ধার তৎপরতা উড়ির চরে শিক্ষা বিপর্যয়: শিক্ষকরা বেতনহীন, পরীক্ষার্থীরা সবাই ফেল আগস্ট ঘিরে হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ

সরকারি অফিস নাকি আবাসিক বাসা? বিএমডিএ কার্যালয়ে রান্নাঘর, শয়নকক্ষ ও রাত্রিযাপনের অভিযোগে তোলপাড়

প্রতিবেদকের নাম: / ২৩২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি অফিস নাকি আবাসিক বাসা? বিএমডিএ কার্যালয়ে রান্নাঘর, শয়নকক্ষ ও রাত্রিযাপনের অভিযোগে তোলপাড়

  • সরেজমিনে মিলল বিছানা

  • রান্নার সরঞ্জাম ও গৃহস্থালি সামগ্রী; নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান

  • কর্মচারীদের অফিসে থাকা ও সরকারি সম্পদের ব্যবহারে উঠছে প্রশ্ন— জনবল সংকটের ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের

লালমনিরহাট:বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ সরকারি দপ্তর। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই যেন বদলে যায় পুরো চিত্র। দাপ্তরিক টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি চোখে পড়ে বিছানা, রান্নার সরঞ্জাম, বাজারের ব্যাগ, গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, লালমনিরহাটে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) জেলা কার্যালয়ের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ব্যবস্থার মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া করা দুইতলা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে বিএমডিএর জেলা কার্যালয়। নিচতলার একটি কক্ষ সরকারি মালামাল সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত হলেও সেখানে বিছানা, রান্নার সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী রাখা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ওই কক্ষে একজন কর্মচারী নিয়মিত অবস্থান করেন।

দোতলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের পাশেই রয়েছে একটি সুসজ্জিত বিশ্রামকক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের বাইরে ওই কক্ষ রাত্রিযাপনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অফিসের ভেতরেই রান্নাবান্নার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

অফিসে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মী জানান, বৈঠক বা বিশেষ প্রয়োজনের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য নিয়মিত খাবার রান্না করতে হয়। প্রয়োজনে তিনি ওই ভবনেই বিশ্রাম নেন এবং রাত কাটান বলেও দাবি করেন।

অন্য এক কর্মচারীর ভাষ্য, আগে তিনি আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে অফিস ভবনেই থাকতে শুরু করেন। ব্যক্তিগতভাবে এতে আগ্রহী না হলেও দায়িত্বের কারণে সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অফিস পাহারা ও অন্যান্য কাজের জন্য মাস্টাররোলভিত্তিক কয়েকজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তারা পালাক্রমে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মীর কয়েকজনও অফিস ভবনেই অবস্থান করেন।

সরকারি অফিস ভবনে এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক বিধিবিধি ও সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি দপ্তর কোনোভাবেই স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে না। এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লালমনিরহাট বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে অফিস পাহারার জন্য কয়েকজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা নয়। দূর-দূরান্ত থেকে কোনো কর্মকর্তা এলে বা গভীর রাত হয়ে গেলে বিশ্রামের জন্য কক্ষ ব্যবহার করা হয়। দুপুরে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার কারণে অফিসে রান্নার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অফিসের কক্ষ ও অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।


আরও সংবাদ...

ফেসবুকে আমরা