• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ডের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি সন্দ্বীপে স্কুলছাত্রী অপহরণ, তিনদিন পেরিয়ে গেলেও নেই উদ্ধার তৎপরতা উড়ির চরে শিক্ষা বিপর্যয়: শিক্ষকরা বেতনহীন, পরীক্ষার্থীরা সবাই ফেল আগস্ট ঘিরে হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর: প্রস্তুত সাত ভেন্যু, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা জোরদার এক সফরে উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও রাজনীতি—চট্টগ্রামে তারেক রহমান

বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার

এমডি.রিমন আল ফাহাদ / ৩০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার

চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি; ২৪ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে তলোয়ার-চাপাতিসহ ৪ মোবাইল উদ্ধার

বিদেশি নম্বর থেকে ফোন, WhatsApp-এ হুমকি—ভয় ধরাতে ব্যবহার করা হতো পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এমন কৌশলে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তাররা ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করত।

চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি

সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ওই চিকিৎসককে ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’—এমন ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে শনাক্ত

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।

পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করত চক্রটি

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তাররা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল।

চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করত। পরে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করাই ছিল তাদের কৌশল।

রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা অভিযান

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী থানাধীন ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন মাজার এলাকা এবং খুলশী থানাধীন দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৭ জন

গ্রেপ্তাররা হলেন—কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।

তাদের মধ্যে কামরুল হাসান, রিকু, মানিক ও নুরুল আলম হাটহাজারীর খন্দকিয়ার বাসিন্দা। তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত বায়েজিদ বোস্তামীর জালালাবাদের, আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার হাটহাজারীর ছিপাতলীর এবং আহমদ রেজা শাকিল হাটহাজারীর চিকনদণ্ডীর বাসিন্দা।

উদ্ধার তলোয়ার-চাপাতিসহ ৪ মোবাইল

অভিযানে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শাকিলের বিরুদ্ধে ৮ মামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি, চাঁদাবাজির দুটি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটি—মোট আটটি মামলা রয়েছে।

মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত একটি ও ডাকাতির প্রস্তুতির একটি—মোট দুটি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি করে মামলা রয়েছে।

অন্য সদস্যদের খুঁজছে পুলিশ

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্য এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আরও সংবাদ...

ফেসবুকে আমরা