• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সন্দ্বীপে যুবককে কুপিয়ে জখম: নেপথ্যে যুবদল নেতা? সন্দ্বীপ থানার সামনে পুলিশ অপহরণ মামলার প্রধান আসামির শোডাউন, উস্কানিমূলক স্লোগান বিদেশি নম্বরে চাঁদাবাজি, ডেভিড ইমনের নাম ভাঙিয়ে ৭ জন গ্রেপ্তার বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের রিমান্ডের মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা বদলি সন্দ্বীপে স্কুলছাত্রী অপহরণ, তিনদিন পেরিয়ে গেলেও নেই উদ্ধার তৎপরতা উড়ির চরে শিক্ষা বিপর্যয়: শিক্ষকরা বেতনহীন, পরীক্ষার্থীরা সবাই ফেল আগস্ট ঘিরে হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জ্বালানি তেল বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জামায়াতের রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল, চট্টগ্রামে গ্যাস আনতে নতুন সমীকরণ

সন্দ্বীপ থানার সামনে পুলিশ অপহরণ মামলার প্রধান আসামির শোডাউন, উস্কানিমূলক স্লোগান

ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক / ৯৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সন্দ্বীপে পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ও যুবদল নেতা মো. করিম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে ফুলের মালা পরিয়ে আনন্দ মিছিল ও শোডাউন করেছে তার অনুসারীরা। এসময় “জেলের তালা ভেঙেছি, করিম ভাইকে এনেছি” স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে সন্দ্বীপের প্রধান সড়ক। পুলিশের ওপর হামলাকারী একজন অভিযুক্তের এমন প্রকাশ্য শোডাউনে স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আজ সন্দ্বীপে পৌঁছান মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. করিম। এরপরই তার সমর্থকরা তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়। গলায় ফুলের বিশাল মালা পরিয়ে, দলবল নিয়ে সন্দ্বীপের এনাম নাহার মোড় থেকে গিয়ে সন্দ্বীপ থানার সামনে অবস্থান নেয় এবং সেখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপর প্রধান সড়ক ধরে পন্ডিতের হাট পর্যন্ত মহড়া দেয় তারা। এ সময় অনুসারীদের দেওয়া উসকানিমূলক স্লোগান ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়।

তবে এই শোডাউন ও ফুলের মালা পরানোর বিষয়ে অভিযুক্ত মো. করিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক দাবি করেন। তিনি বলেন, “জামিনে বের হওয়ার পর এলাকার মানুষ আমাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে। এটা আমার প্রতি তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।”

অন্যদিকে, জামিন পেয়ে আসামির এমন প্রকাশ্য আস্ফালনের বিষয়ে ভুক্তভোগী পুলিশ কনস্টেবল ইসমাঈল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আসামিদের এমন প্রকাশ্য মহড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “যেই লোক পুলিশের গায়ে হাত তোলার পর বীরদর্পে ফুলের মালা গলায় দিয়ে রাস্তা কাঁপিয়ে মিছিল করে, তার বিরুদ্ধে আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে কথা বলব? পুলিশই যদি মার খেয়ে বিচার না পায়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

উল্লেখ্য, ফেসবুকে মাদকবিরোধী একটি পোস্টে মন্তব্যের জেরে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন-১) কনস্টেবল ইসমাঈল হোসেনকে মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাটের একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় করিম ও তার দলবল। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যের দায়ের করা মামলায় পুলিশ করিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুছাপুরের নির্জন ‘ধাম’ এলাকা কেন্দ্রিক এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ করে আসছে।

গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে আসামিপক্ষের এমন শোডাউনের বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, “আসামি আদালত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেয়েছে। তবে জামিনে এসে কেউ যদি এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে বা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে, তবে পুলিশ তা বরদাশত করবে না। আমরা পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”


আরও সংবাদ...

ফেসবুকে আমরা